শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥ লালমনিরহাটে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিককে বেদম পিটিয়ে ফুলা জখম করার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) রাতে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিককে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়ার পর সেখানকার চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন। বর্তমানে চেয়ারম্যান রফিক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এর আগে বিকেলে সদর উপজেলা ভুমি অফিস গেটে হামলার শিকার হন ইউপি চেয়ারম্যান রফিক। আহত রফিকুল ইসলাম রফিক সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।
আহত ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হারাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল হক খন্দকার ও কতিপয় ছেলে তার ইউনিয়নের বালাটারী চান্দের বাজার যুব উন্নয়ন ক্লাবে প্রতিরাতে জুয়া ও মাদকের আসর বসিয়ে যুব সমাজকে কলঙ্কিত করছেন। বিষয়টি জানতে পেরে জুয়া ও মাদকের আড্ডা বন্ধ করে দেন ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল হক খন্দকার ও তার লোকজন চেয়ারম্যান রফিককে বিভিন্ন সময়ে মোবাইলে হুমকী দেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান জিবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ৮ আগষ্ট সদর থানায় সিরাজুল হক খন্দকারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি সাধারন ডায়েরী(জিডি) বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনার জের ধরে সাবেক চেয়ারম্যানের ভাতিজা সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মোত্তালিব দলবল নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলা ভুমি অফিসের চেয়ারম্যান রফিককে আটক করে গালমন্দ করে। এর এক পর্যয়ে চেয়ারম্যান রফিককে যুবলীগের নেতাকর্মীরা কিল ঘুসি মারলে গুরুতর আহত হন চেয়ানম্যান। এ সময় স্থানীয়রা চেয়ারম্যানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, সদর উপজেলা ভুমি অফিসে কাজ শেষে ফেরার পথে যুবলীগ নেতা মোত্তালিবসহ বেশ কিছু ছেলে তার উপর অতর্কিত ভাবে হামলা করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে সেখানে যুবলীগের ছেলেরা বাঁধা দিলে পরে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এ ঘটনায় প্রশাসন ও দলীয় ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন বলেও জানান তিনি।
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্ব থাকা উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আরিফ হোসেন জানান, ইউপি চেয়ারম্যান বুকে ও দুই হাতের বাহুতে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছেন। তাকে চিকিৎসা দেয়া হলে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার (২৪ অক্টোবর) সকালে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
অভিযুক্ত সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মোত্তালিব বলেন, যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান একটি মিথ্যা মাদকের অভিযোগ দায়ের করায় যুবলীগের কয়েকজন কর্মী চেয়ারম্যানকে গালমন্দ করেছেন মাত্র। তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঠিকই তবে তার উপর হামলা করেননি।
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাহফুজ আলম জানান, স্থানীয় ভাবে বিষয়টি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।